ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোট ১১ জন প্রার্থী। তারা সবাই নির্বাচিত হলে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
রাজধানীর মুগদা, বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই আসনে প্রচারণা জোরদার হয়েছে। প্রার্থীদের ইশতেহার ঘোষণার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে তাদের নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে অঙ্গীকারনামা পাঠ করানো হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারা। যানজট নিরসন ও নাগরিক সেবা উন্নয়নের বিষয়টিও তাদের ইশতেহারে গুরুত্ব পায়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী আবুল খায়ের বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের জন্য সুশাসন ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে যোগ্যতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে কর্মজীবী মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন। পাশাপাশি গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া (জাবেদ রাসিন) বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যার সমাধানে কিশোরদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের জন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ বলেন, সবাই এই এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, যে-ই নির্বাচিত হোক না কেন, ঢাকা-৯ আসনের উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা-৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
কসমিক ডেস্ক