সোহরাওয়ার্দীতে অনার্স পরীক্ষায় ব্যাপক নকলের অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সোহরাওয়ার্দীতে অনার্স পরীক্ষায় ব্যাপক নকলের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 30, 2026 ইং
সোহরাওয়ার্দীতে অনার্স পরীক্ষায় ব্যাপক নকলের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

রাজধানীর পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নকলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্রের শৌচাগার ও ওয়াশরুমগুলোকে নকলের ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সুষ্ঠু পরীক্ষা ও কেন্দ্রের তদারকি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, অনার্স পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের শৌচাগারের জানালার কোনা, ফ্লাশ ট্যাংক, দরজার পেছনসহ বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে মূল বই, গাইড ও হাতে লেখা নোট। কোথাও কোথাও মূল বই ও গাইড থেকে উত্তর ফটোকপি করে ছোট আকারে কেটে রাখার চিহ্নও পাওয়া যায়।

শুধু শৌচাগার নয়, ওয়াশরুমের ভেতরেও একই চিত্র দেখা গেছে। বেসিনের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বইয়ের ছেঁড়া পৃষ্ঠা, নোট এবং খাতায় লেখা উত্তর। পরীক্ষা শেষে এসব কাগজপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেলে তা নকলের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরীক্ষা শুরুর আগেই কিছু পরীক্ষার্থী বিভিন্ন অজুহাতে হলে প্রবেশ করে শৌচাগার ও ওয়াশরুমে নকলের উপকরণ লুকিয়ে রাখে। পরে পরীক্ষা চলাকালীন বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি নিয়ে সেসব তথ্য মুখস্থ করা বা সরাসরি চিরকুট হলে নিয়ে এসে উত্তর লেখার অভিযোগ রয়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে দায়িত্বে থাকা একাধিক চেকিং কর্মী জানান, তল্লাশির সময় কিছু নকল জব্দ করা গেলেও সব ক্ষেত্রে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তাদের মতে, পরীক্ষার্থীরা শরীরের স্পর্শকাতর অংশ বা এমন জায়গায় নকল লুকিয়ে রাখে, যেখানে তল্লাশি করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এই অনিয়মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা নকলের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে পরীক্ষা কেন্দ্রের তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা কলেজ প্রশাসন ও পরীক্ষা কমিটির গাফিলতিকে দায়ী করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ধরনের গণহারে নকল উচ্চশিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। নিয়মিত পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় নকল করে বেশি নম্বর পাওয়া একটি চরম অন্যায় বলে তারা মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী জানান, হলে দায়িত্বরত শিক্ষকদের নজরদারি দুর্বল থাকায় পরীক্ষার্থীরা একাধিকবার বাথরুমে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই শিথিলতার সুযোগ নিয়েই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নকল লুকিয়ে রেখে তা ব্যবহার করছে।

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কবি নজরুল সরকারি কলেজের কিছু পরীক্ষার্থী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই পরীক্ষাকে প্রহসনে পরিণত করেছে। নকলকে তারা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নিচ্ছে, যা পুরো কেন্দ্রের শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করছে।

এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল বা যে কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর। কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বাথরুমে আগে থেকে নোট বা বই লুকিয়ে রাখার অভিযোগ রোধে একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে পরীক্ষা চলাকালীন শৌচাগার ও ওয়াশরুমে তল্লাশি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন জোট ‘এনডিএফ’ গঠন,

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন জোট ‘এনডিএফ’ গঠন,