সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মিলন দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মিলন দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 12, 2026 ইং
সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মিলন দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ছবির ক্যাপশন:
ad728

বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন, তার স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপি ও তিন বোনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম।

একটি মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন এবং তার তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমের বিরুদ্ধে মোট ৬২ কোটি ৭৭ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ নিয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং অসাধু উপায়ে ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে।

অন্য মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম মিলন ও তার স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপির বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে অভিযোগ আনা হয়। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, তারা ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং স্বামীর অবৈধ সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখল করেছেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয় থেকে হামিদুল আলম মিলন ও তার স্ত্রীকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই বছরের ২৩ জুন তারা নিজ নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, হামিদুল আলম মিলনের মা ও তিন বোন গৃহিণী এবং তাদের কোনো স্বতন্ত্র আয়ের উৎস নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, মিলন ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাদের নামে সম্পদ কেনেন এবং পরবর্তীতে হেবা দলিলের মাধ্যমে সেসব সম্পদ নিজের নামে স্থানান্তর করেন। তার মা রওশন আরা বেগম ২০২০ সালে মারা যাওয়ায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি।

আরেক মামলায় বলা হয়, শাহাজাদী আলম লিপি তার মা সাফিয়া খাতুনের কাছ থেকে সম্পদ পাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাফিয়া খাতুন ছিলেন গৃহিণী এবং তার স্বামীর আয় সীমিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ আয়ের অর্থে শাশুড়ির নামে সম্পদ কেনা হয় এবং পরে তা হেবা দলিলের মাধ্যমে শাহাজাদী আলম লিপির নামে স্থানান্তর করা হয়। সাফিয়া খাতুন ২০২১ সালে মারা যাওয়ায় তাকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

দুদকের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, নিবিড় অনুসন্ধানে সম্পদের উৎস ও ঘোষিত তথ্যের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়ায় এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, শাহাজাদী আলম লিপি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। সে সময় নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় তার স্বামী হামিদুল আলম মিলন সাময়িক বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পুলিশের চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সরকার গঠন করলে বরিশাল–ভোলা সেতু নির্মাণ করা হবে—তারেক রহমান

সরকার গঠন করলে বরিশাল–ভোলা সেতু নির্মাণ করা হবে—তারেক রহমান