স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে বর্তমানে ‘ফাইবারম্যাক্সিং’ বা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানোর প্রবণতা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ হজমশক্তি উন্নত করা, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনেকের প্রশ্ন—চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড (তিসি) এবং ইসবগুলের ভুসির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে উপকারী?
খাদ্যআঁশ বা ফাইবার প্রধানত দুই ধরনের—দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়। দ্রবণীয় ফাইবার পানির সঙ্গে মিশে জেলের মতো হয়ে হজম ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। অন্যদিকে অদ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড এবং ইসবগুল—তিনটিতেই পর্যাপ্ত দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, তবে প্রত্যেকটির বিশেষ উপকারিতা ভিন্ন।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে ইসবগুলের ভুসি সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি প্রচুর পানি শোষণ করে মল নরম করতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ সহজ করে। তবে এটি খাওয়ার সময় অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ বা কমানোর লক্ষ্য থাকলে চিয়া সিড ভালো পছন্দ হতে পারে। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটি ফুলে জেলের মতো হয়ে যায়, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে ফ্ল্যাক্স সিড (তিসি) হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, লিগন্যান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা প্রদাহ কমাতে এবং হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক। ভালোভাবে হজমের জন্য ফ্ল্যাক্স সিড গুঁড়ো করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে তিনটিই ভিন্ন সময়ে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। যেমন সকালে চিয়া সিড, দুপুরে ফ্ল্যাক্স সিড এবং রাতে ইসবগুলের ভুসি গ্রহণ করা যায়। তবে যেকোনো ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার সময় দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি না খেলে উপকারের বদলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কসমিক ডেস্ক