যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই পরমাণু পরিদর্শন ইস্যুতে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ইরানের সাম্প্রতিক দাবিকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সম্প্রতি ইরান দাবি করেছিল যে, তারা এমন কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পাবে। তবে ট্রাম্পের মতে, ইরানি কর্মকর্তাদের এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আলোচনার শর্ত সম্পর্কে তারা যথেষ্ট অবগত।
জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান পরিদর্শন ব্যবস্থা নিয়ে যে অবস্থান তুলে ধরছে তা সঠিক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি ইরানের দাবি সত্য হতো, তাহলে তিনি আলোচনার বৈঠকগুলোই বাতিল করে দিতেন। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা ইরানে প্রবেশ করবেন এবং চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধগুলোর একটি হলো পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অপরিহার্য শর্ত হিসেবে থাকবে। তাদের মতে, কার্যকর নজরদারি ছাড়া কোনো চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ব্যাপক পরিদর্শন এবং অবাধ প্রবেশাধিকারের ধারণার প্রতি প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। ফলে আলোচনায় এই বিষয়টি অন্যতম স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে তাতে কঠোর পরিদর্শন ও যাচাই প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক