চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশের অভিযানে শিশুটিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। তাদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা এলাকার ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার আপন মামাতো ভাই। পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। উদ্দেশ্য ছিল শিশুটিকে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা। মুক্তিপণের অর্থ ভাগাভাগির লোভ দেখিয়ে তিনি পরিচিত কয়েকজন সিএনজি চালককে এ পরিকল্পনায় যুক্ত করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জানান, গত ২০ জুলাই সকালে প্রতিদিনের মতো তাসকিন স্কুলে যায়। কিন্তু স্কুল ছুটির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরে তাসকিনের এক সহপাঠীর কাছ থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তি নিজেকে অটোরিকশাচালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে বলেন, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ওই কথায় বিশ্বাস করে শিশুটি অটোরিকশায় উঠে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিন-রাত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে শিশু তাসকিনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কসমিক ডেস্ক