ভারতের রাজধানী New Delhi-তে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে Cockroach Janata Party (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা Abhijit Dipke সোমবার গভীর রাতে এ ঘোষণা দেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আন্দোলন চলবে এবং বিক্ষোভকারীরা Jantar Mantar-এ অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে যাবেন না। মঙ্গলবারও ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার দিনভর যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে Delhi Police-এর সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পাথর নিক্ষেপ করেছিল, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষের পর ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমরা আবার পদযাত্রা করব। আমরা এই বিক্ষোভস্থল ছেড়ে যাচ্ছি না।” তার এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে।
গত ৬ জুন থেকে সিজেপির নেতাকর্মীরা যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন। তাদের প্রধান দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী Dharmendra Pradhan-এর পদত্যাগ। একই দাবিতে এর আগে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী Sonam Wangchuk অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন। পরে তাকে আটক করে Safdarjung Hospital-এ নিয়ে যায় পুলিশ।
সোমবার সকালেই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ মঞ্চ সরিয়ে দেয়। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই সিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা পুনরায় সেখানে জড়ো হন এবং নতুন করে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে আন্দোলন চালিয়ে যান। বৃষ্টির মধ্যেও তারা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন, যা আন্দোলনের প্রতি তাদের দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
এদিন হাজারো মানুষ ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে। তবে পুলিশের দাবি, তাদেরও ১১৮ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। দিনভর সংঘর্ষ ও বৃষ্টির পরও রাত পর্যন্ত যন্তর মন্তর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেখানে অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারী এবং কয়েকশ পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের সংলাপের উদ্যোগও দেখা গেছে। সূত্র অনুযায়ী, সিজেপির প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী JP Nadda-এর সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন। প্রথম বৈঠকে তিনি লিখিত দাবি জমা দিতে বলেন এবং পরে আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তার হাতে তুলে দেন।
দিল্লি পুলিশ ইতোমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বহু বছর পর দিল্লিতে এত বড় আকারের সড়ক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। এর মধ্যেই আবারও পদযাত্রার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। মঙ্গলবার কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেদিকে নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।
কসমিক ডেস্ক