তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই ২৭ মার্চ (শুক্রবার) ও ২৮ মার্চ (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে আগামী ২৯ মার্চ (রোববার) থেকে।
এই দীর্ঘ ছুটি শুধু স্কুল-কলেজেই সীমাবদ্ধ ছিল না, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও একই সময় বন্ধ রাখা হয়। গত ৮ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছুটি কার্যকর করা হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ছুটি এগিয়ে আনা হয়, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো যায়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত থাকেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই অনুযায়ী কার্যক্রম স্থগিত রাখে।
বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৯ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ওই দিন থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকে।
ঈদের ছুটি শেষে এখন আবার নতুন উদ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবে, শিক্ষকরা পুনরায় পাঠদান শুরু করবেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীদের আবার পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত পাঠদানের মাধ্যমে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব।
এদিকে, শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন দীর্ঘ ছুটি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ছুটির পর ২৯ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাঙ্গনে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসতে যাচ্ছে—যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক