টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা এবং পাহাড়ধসের কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বহু পরিবার তাদের বসতঘর হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকেই এখন প্রতিবেশীর বাড়ি কিংবা আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে কিছু ত্রাণ সহায়তা মিললেও স্থায়ী পুনর্বাসনের অভাবে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকার দিনমজুর মিজানুর রহমানও এমনই এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। বন্যার পানিতে তার পরিবারের একমাত্র বসতঘরটি কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়া ঘরটি ধসে পড়ে। বর্তমানে তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
মিজানুর রহমানের স্ত্রী জাহেদা জানান, তার স্বামী দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন এবং দৈনিক আয়ের ওপরই পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। বন্যা তাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
শুধু একটি পরিবার নয়, চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের দুর্দশার চিত্র দেখা যাচ্ছে। টানা বর্ষণ ও বন্যায় অসংখ্য বাড়িঘর, মৎস্য প্রকল্প, সবজিক্ষেত এবং গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের জীবিকার পাশাপাশি বসবাসের জায়গাও হারিয়েছে।
কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদের মাটির তৈরি ঘর অতিবৃষ্টির কারণে ধসে পড়ে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত হলেও বর্তমানে তিনি কর্মহীন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের সেমিপাকা ঘর পাহাড়ধসে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। বর্তমানে আট সদস্যের পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত রয়েছেন। পেশায় টমটমচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই নতুন ঘর তুলেছিলেন, কিন্তু পাহাড়ধসে সবকিছু মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রাণ দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা, নিরাপদ আবাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে কিছু পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ না নিলে তাদের মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে
কসমিক ডেস্ক