জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে দেশটির সিনেট প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে সাত বছর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে বিপুল সমর্থন পাওয়া যায়, যা দেশটির সাংবিধানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত করেছে।
সিনেটে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ৭৫ জন সদস্য, বিপক্ষে ভোট দেন মাত্র চারজন। ফলে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহজেই অর্জিত হয়। এখন বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়ার স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট আর সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন না। পরিবর্তে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটবে।
বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়ার দ্বিতীয় ও শেষ সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। ক্ষমতাসীন জ্যানু-পিএফ দলের সমর্থকেরা বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছিলেন যে, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তার আরও সময় প্রয়োজন।
গত বছর ক্ষমতাসীন দল সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সমর্থন লাভ করে। এর ধারাবাহিকতায় সিনেটে বিলটি পাস হয়েছে।
২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর সমর্থনে সংঘটিত এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মানানগাগওয়া। এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় থাকেন।
তবে নতুন এই বিলকে ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বর্তমান প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করা। তাদের মতে, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন প্রয়োজন। বিলটি আইনে পরিণত হলে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক কাঠামো ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক