বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি বড় ধরনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পেশায় অটোরিকশাচালক মো. রাসেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে গরদ্বার গ্রামে আসামিরা তার বাড়িতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে তার বসতঘর সম্পূর্ণভাবে আগুনে পুড়ে যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া স্টেশনের টিম লিডার আনোয়ার হোসেন জানান, তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে খবর পান। ফলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি।
এদিকে মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ তাকে ও তার দলের নেতাকর্মীদের ফাঁসাতে এই মামলা করেছে।
অন্যদিকে এজাহারে নাম থাকা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ঘটনাস্থলের ঘটনাও তার জানা নেই। তিনি দাবি করেন, তাকে কেন আসামি করা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না এবং তিনি বাদী মো. রাসেলকেও ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।
বাদী মো. রাসেলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে বোমা বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে এর বাইরে বিস্তারিত কিছু এখনই বলা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আবদুল্লাহ ফকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। বিপুল সংখ্যক আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক