রাজধানীর বনানী এলাকায় ডায়মন্ড ও স্বর্ণের তৈরি নেকলেস চুরি এবং আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় দুই নারীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা।
আসামিরা হলেন মুনমুন আচার্য ওরফে প্রিয়া (৩০) এবং মোসাম্মৎ রিফা তামান্না (২৩)। তারা উভয়েই একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তারা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে জানান, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসল ডায়মন্ডের অলংকারের পরিবর্তে নকল বা রেপ্লিকা অলংকার প্রতিস্থাপন করতেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা ধাপে ধাপে মূল্যবান গয়না আত্মসাৎ করতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই চুরির ঘটনা চলতে থাকে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে এই অপরাধ সংঘটিত করেন। তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কাজ করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মূল্যবান ডায়মন্ড ও স্বর্ণের গয়না সরিয়ে ফেলেন। একই সঙ্গে, আসল গয়নার জায়গায় নকল বসিয়ে রাখায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরা পড়েনি।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ড ও স্বর্ণের সমন্বয়ে তৈরি চারটি নেকলেস। এসব নেকলেসের ওজন যথাক্রমে ২৬.১১ গ্রাম, ৫০.৪১ গ্রাম, ১৯.৮৪ গ্রাম এবং ৩১.৪৩ গ্রাম। এছাড়াও, মামলায় আরও কিছু মূল্যবান গয়না সরাসরি চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে, গত ৯ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই সময়ের মধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের চুরির ঘটনায় সাধারণত ভেতরের লোকজনের সম্পৃক্ততা থাকে এবং তা শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, তারা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকে এবং সেই সুযোগ কাজে লাগায়।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রাথমিক তদন্তেই আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত অডিট, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং পণ্যের হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, কর্মচারীদের কার্যক্রমের ওপরও নজরদারি বাড়াতে হবে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি রাজধানীতে জুয়েলারি খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের মাধ্যমে এই চুরির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা যায় কি না।
কসমিক ডেস্ক