যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ৪ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে। এরপর ধারাবাহিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ৯ জুলাই তাকে তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, জানাজার প্রক্রিয়াটি কয়েক ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই কোম শহরে আরেকটি পৃথক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া মার্চ মাসে নির্ধারিত থাকলেও ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় জানাজার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং নতুন সূচি অনুযায়ী এখন প্রস্তুতি চলছে।
খামেনির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রতিবেদনে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন খামেনি। এর আগে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন খোমেনি, যার মাধ্যমে ইরানের পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
খামেনিকে ইরানের সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো গঠনের অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তার মৃত্যুর পর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক মনোযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক