প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ, ন্যাটোর নতুন অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা আজ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ, ন্যাটোর নতুন অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা আজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 7, 2026 ইং
প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ, ন্যাটোর নতুন অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা আজ ছবির ক্যাপশন:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদারের পথে হাঁটছে ন্যাটো। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সম্মেলনে জোটভুক্ত দেশগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের নতুন অস্ত্র চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, ইউরোপীয় সদস্য দেশ এবং কানাডা ২০২৫ সালে তাদের সামরিক বাজেট গড়ে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে এবং মোট সামরিক ব্যয় ৫৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ। দ্বিতীয়ত, ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ।

সম্মেলনে ঘোষিত হতে যাওয়া অস্ত্র চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করা হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ৩ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি মূল্যের সামরিক ক্রয়চুক্তিতে অংশ নেবে। অন্যদিকে কানাডা নিজেদের নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জার্মানির কাছ থেকে ১২টি নতুন সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

এ ছাড়া ন্যাটো তাদের পুরোনো মার্কিন নজরদারি বিমান ধীরে ধীরে বাদ দিয়ে সুইডেনের অত্যাধুনিক GlobalEye নজরদারি বিমান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জোটের আকাশ নজরদারি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে তুরস্ককেও ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটিকে পুনরায় এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিতে পারেন।

সম্প্রতি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও সামনে এসেছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সমর্থন দেয়নি। এমনকি তিনি অতীতে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা পুনর্বিবেচনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।

তবে ন্যাটো নেতারা আশাবাদী, আঙ্কারার এই সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জোটের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে চলতি বছরে দেশটির জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপের নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ এবং যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো জোট।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের বাসায় তারেক রহমান

রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের বাসায় তারেক রহমান