শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ার পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ার পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 13, 2026 ইং
শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ার পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শক্তি তার সশস্ত্র বাহিনী। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি দক্ষ, আধুনিক ও পেশাদার সামরিক বাহিনীর বিকল্প নেই। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকার সেনানিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বহিঃশক্তি সমীহ করে এবং দেশের জনগণ পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বাহিনীকে উচ্চ আদর্শে পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান। তিনি সদস্যদের দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং সততা, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশপ্রেমের বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন তাঁর পিতা জিয়াউর রহমান-এর অবদান, যিনি একটি পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময়েও বাহিনীর আধুনিকায়ন আরও বেগবান হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের অবদান বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও নীতিগত সমর্থনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে সংকটময় পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শন এবং জনগণের পাশে থাকার মনোভাব দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্তকে তিনি একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শিল্পাঞ্চল সচল রাখা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বাহিনীর সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এর মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী ও দক্ষ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন-এর নেতৃত্বে বাহিনী বর্তমানে সুসংগঠিত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কোনো শক্তিই পরাজিত করতে পারবে না। দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে ঘেরাও করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রে

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে ঘেরাও করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রে