বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে গত জুন মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। এক মাসে পরিচালিত অভিযানে মোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বাহিনীটি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ পণ্য পরিবহন বন্ধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বিজিবি।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, পোশাক, কসমেটিকস, মোবাইল সামগ্রী, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান সামগ্রী। অভিযানে ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১৮ হাজার ১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক এবং প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার কসমেটিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি, কাঠ, চা-পাতা, সুপারি, কয়লা, বিড়ি-সিগারেট, মোবাইল ফোন, মোবাইলের যন্ত্রাংশ এবং ইলেকট্রিক সামগ্রীও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৫ লাখের বেশি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, সার, কীটনাশক, বীজ এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশ।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। জুন মাসে পরিচালিত অভিযানে ৮টি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন ও ৬টি গ্রেনেডসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবির সদস্যরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ আইস, হেরোইন, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, গাঁজা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৮ কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
এ সময় চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, প্রাইভেট কার, বাস, ট্র্যাক্টর, সিএনজি, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে ৪৭ জন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় নাগরিক এবং ২৮৪ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে অপরাধ দমনে কাজ করছে বাহিনীটি।
কসমিক ডেস্ক