ঢাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য একজন নারী আদালতে হাজির হওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় আটক মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, মামলাটি ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ তুলি এই মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামি নাসরিন সিকদার নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গত ১৬ জুন তার জামিন বাতিল করা হয় এবং আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ২০ আগস্ট।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার আদালতে নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম নামে এক নারীকে হাজির করে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানির একপর্যায়ে বিচারকের সন্দেহ সৃষ্টি হলে ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। আদালতে উপস্থাপিত পরিচয়পত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে বিচারক নিশ্চিত হন যে, তিনি মামলার প্রকৃত আসামি নন। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়।
ঘটনার পর আদালতের বেঞ্চ সহকারী কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নাসরিন সিকদার, আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন, মনোয়ারা বেগম এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক বা একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা, প্রতারণা এবং বিচারিক কার্যক্রমে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার মনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য জানতে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় বিচারক মনোয়ারা বেগমের কাছে জানতে চান, তিনি আগে কখনও এ ধরনের ঘটনায় জড়িয়েছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, এর আগে এমন কোনো কাজ করেননি। নাসরিন সিকদারের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যের পরিচয়ে আদালতে হাজির হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মনোয়ারা আদালতে বলেন, তিনি একটি আইনজীবীর চেম্বারে কাজ করেন এবং চেম্বার থেকেই তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর বিচারক তাকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত আসামির অবস্থান, ঘটনার পরিকল্পনা, কারা এতে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কীভাবে আদালতে অন্য একজনকে হাজির করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
কসমিক ডেস্ক