প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে আবাসন খাতের ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির সভাপতি ড. মো. আলী আফজাল বলেছেন, ৫ কাঠা জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রায় দেড় কোটি টাকা কর এবং ডেভেলপারদের নির্মিত ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ দেশের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এক আলোচনায় তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি যদি সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি জমি কিনে ভবন নির্মাণ করতে চান, তবে অতিরিক্ত করের বোঝা তাকে নিরুৎসাহিত করবে। ফলে অনেক জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে এবং নতুন বিনিয়োগও কমে যেতে পারে। এতে আবাসন খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ড. আলী আফজালের মতে, নতুন করের প্রভাব শুধু ডেভেলপারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হবে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালাতে পারে না। জমির মালিক, ডেভেলপার এবং নির্মাণ ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে ফ্ল্যাটের মূল্য আরও বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নির্মাণসামগ্রী, কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নির্মাণ ব্যয় আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর সঙ্গে নতুন কর যোগ হলে আবাসন খাত আরও চাপে পড়বে।
রিহ্যাব সভাপতি দাবি করেন, বাংলাদেশের আবাসন খাতকে অনেক সময় শুধুমাত্র রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই খাতের প্রধান ক্রেতা ধনী শ্রেণি নয়; বরং মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ। অতিরিক্ত করের ফলে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, অনেক দেশে প্রথমবার বাড়ি নির্মাণ বা কেনার ক্ষেত্রে সরকার প্রণোদনা, অনুদান বা স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা দেয়। অথচ বাংলাদেশে আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
কসমিক ডেস্ক