মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ হিসেবে পালন করা হবে। রবিবার (৫ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন এবং ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ গণ-আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সংঘটিত ঘটনায় সম্ভবত চারজন নিহত হন। তাঁদের স্মরণে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা তুলে ধরতেই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশের পর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাকে স্মরণ করে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ বিবেচনা করা হচ্ছে। চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণ অথবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে এ প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় শুরু হওয়া প্রতিরোধ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং বিপুলসংখ্যক মাদরাসা শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকায় কয়েক দিন ধরে অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল এবং সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হন। তাঁদের স্মরণে এবং স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে একটি সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
কসমিক ডেস্ক