বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল আইভরি কোস্ট। নকআউট পর্বে প্রথমবার জায়গা নিশ্চিত করতে তাদের প্রয়োজন ছিল অন্তত এক পয়েন্ট। তবে সমীকরণের ওপর নির্ভর না করে জয় দিয়েই নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আইভরি কোস্ট। এর সুফলও তারা দ্রুত পেয়ে যায়। সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন নিকোলাস পেপে। কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডাররা বক্সের ভেতরে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সেটি দখলে নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান তিনি। দ্রুত পাওয়া এই গোল আইভরি কোস্টকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং প্রথমার্ধে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে কুরাসাও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আইভরি কোস্টের সংগঠিত রক্ষণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ তাদের সেই সুযোগ দেয়নি। বরং ৬৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকোলাস পেপে। মাঝমাঠ থেকে ইব্রাহিম সানগারের দারুণ পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই জোড়া গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পুরো ম্যাচজুড়ে আইভরি কোস্ট আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল উপহার দেয়। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই তারা ছিল কার্যকর। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি এবং বিশ্বকাপে নিজেদের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।
এই সাফল্যের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে আইভরি কোস্টের জন্য। এর আগে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪—টানা তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল দলটি।
গ্রুপ পর্ব শেষে আইভরি কোস্ট ও জার্মানি—দুই দলেরই সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি এবং রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আইভরি কোস্ট। অন্যদিকে গ্রুপের আরেক ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।
ঐতিহাসিক এই জয়ের মাধ্যমে আইভরি কোস্ট শুধু নকআউটে ওঠেনি, বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যেরও নতুন বার্তা দিয়েছে। এখন শেষ ষোলোতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই হবে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য।
কসমিক ডেস্ক