বিশ্বকাপ ২০২৬-এ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল দক্ষিণ কোরিয়াকে। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই তালিকায় জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় কোরিয়ানরা।
গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়া একটি জয় ও দুটি হারে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে। আসরের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল দলটি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর শেষ ম্যাচেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে যায়। টানা দুই হারে তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
গ্রুপ পর্বের শেষ দিনের খেলা শেষে কিছু সময়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর তালিকায় অষ্টম স্থানে ছিল। তবে পরে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রথমে ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে ঘানাকে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে। এরপর ডিআর কঙ্গো ৩-১ গোলে উজবেকিস্তানকে পরাজিত করে ৪ পয়েন্ট অর্জন করলে দক্ষিণ কোরিয়া সেরা আট তৃতীয় দলের তালিকা থেকে ছিটকে পড়ে। ফলে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে নতুন ইতিহাস গড়ে। একই দিনে আলজেরিয়া অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্র করে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপে ১২তম অংশগ্রহণ। এর আগে দলটি তিনবার নকআউট পর্বে খেলেছিল। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল তারা। এছাড়া ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে খেলেছিল কোরিয়ানরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো দলটিকে।
কসমিক ডেস্ক