দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী এবং অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রমে অগ্রগতি এসেছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার মধ্যে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকা এই সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার প্রশ্নের লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম একটি প্রকল্প। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণের লক্ষ্যে সেতু বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পটির কারিগরি, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত দিকগুলো বিশদভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে সেতু নির্মাণের জন্য সরাসরি কোনো বরাদ্দ রাখা না হলেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাজেট থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটিকে এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকা বা ‘সবুজ পাতা’-য় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে একটি নতুন সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং পণ্য পরিবহন, শিল্প-বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যয়, নকশা, অর্থায়ন এবং নির্মাণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ কারণে প্রকল্পটিকে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক