কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সীমান্তে ভুলবশত ভারতে প্রবেশ করে আটক হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে আন্তর্জাতিক সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আটক দুই বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম বিজিবি-২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব উল হক।
ফেরত আসা দুই বাংলাদেশি হলেন—নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সোলেমান হোসেন (৩৪) এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বলদিয়া কুমারটারী গ্রামের সোহাগ মিয়া (২৩)।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১২ এপ্রিল) কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সীমান্তের চৌদ্দঘুড়ি বিওপি এলাকার মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুই ব্যক্তি ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। এরপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়ভাবে তাদের পরিবার বিষয়টি বিজিবিকে জানায়। এরপর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সোমবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৩১/৭-এস সংলগ্ন শূন্য রেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয় এবং রাত ৮টার দিকে দুই বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
বিজিবি-২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব উল হক জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই নাগরিককে নিরাপদে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে এবং পরে তাদের থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস জানান, ফেরত আসা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বিজিবির উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় বর্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটে। তবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব ঘটনার দ্রুত সমাধান হয়।
এ ধরনের পতাকা বৈঠককে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও মানবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। এতে দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
সব মিলিয়ে, কুড়িগ্রাম সীমান্তের এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে যে সীমান্ত এলাকায় ভুলবশত আটক হলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক