রাজধানীর রামপুরায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, রামপুরা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চারজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন হাবিবুর রহমান, সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে রায় ঘোষণার দিন সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জীবন বাঁচানোর জন্য নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তিনি দাবি করেন, মামলার বিচার চলাকালে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছিল।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হোটেলে কাজ শেষে বনশ্রী এলাকায় ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। পথে পুলিশ ও বিজিবির গাড়ি দেখে তিনি প্রাণ বাঁচাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অবস্থায় পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিচে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে এই ঘটনাসহ দুইজনকে হত্যার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
কসমিক ডেস্ক