দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে সুশাসন, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা শাখাপ্রধান হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি বড় ও আলোচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ডিসেম্বরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে উপযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা অথবা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারবে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, গভর্নিং বডির ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষার মান অবনতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথমে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত পরিচালনা করবে। তদন্তে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেখানে শিক্ষা ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তবে এ উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, কেবল শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কার্যকর মনিটরিং এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় নতুন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক