শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং একটি কারখানায় নিহত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার বগাবাড়ি এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে নিহত শ্রমিক এনামুল হকের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঈগল টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উত্থাপনের কারণে একাধিক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের দাবি, শ্রমিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা শ্রমিকদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশকে ব্যাহত করছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া গত ২২ জুন আশুলিয়ার ফ্যাশন ডটকম লিমিটেড কারখানায় নিহত শ্রমিক এনামুল হকের পরিবারের জন্য ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে ছিল—নিহত শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রম আইন অনুযায়ী তার পরিবারকে ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং দাফন-কাফনের ব্যয় বহন, অতিরিক্ত ওভারটাইম ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার চাপ কমিয়ে মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অসুস্থ শ্রমিকদের আইনগত ছুটি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন এবং শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এ দাবিগুলো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ বা অন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।
কসমিক ডেস্ক