দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যাপক শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট দূর করে শিক্ষার মানোন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ডিনস ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শূন্যপদ পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নতুন পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যেই বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে প্রশ্নপত্রের মান ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডই নয়, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব বিষয়ের পাঠ্যক্রম ও বিষয়বস্তু অভিন্ন, সেসব বিষয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং পরীক্ষার মান আরও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাখাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনার বিষয়েও আলোকপাত করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে পর্যায়ক্রমে বাজেট বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাড়ে ৩ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে এই হার ৪ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি প্রদান। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৫১ জনকে ডিনস ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষক নিয়োগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক