ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটটি কন্নড় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী ও মডেল কৃষি থাপান্ডার নামে নিবন্ধিত বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বুধবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেঙ্গালুরুর রাজারাজেশ্বরী নগর এলাকার ওই ফ্ল্যাট থেকে ব্যবসায়ী বৈশাখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা লিখিত বার্তা পাওয়া যায়নি। এ কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় অভিনেত্রী কৃষি থাপান্ডা ইয়েলাহাঙ্কা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তদন্তের স্বার্থে তার বক্তব্যও নেওয়া হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে কোনো অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বৈশাখ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া দাম্পত্য কলহের কারণে প্রায় এক মাস ধরে স্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বসবাস করছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে তদন্তে বৈশাখের অতীতের একটি আলোচিত মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। এর আগে ব্যবসায়ী ও আইনজীবী অরবিন্দ রেড্ডিকে কুরিয়ারের মাধ্যমে কয়েক কোটি রুপি দাবি করে হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এইচএএল থানার পুলিশ। ওই মামলায় তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি কর্ণাটক হাইকোর্ট ওই মামলার পরবর্তী তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এর আগে কয়েক দিন পুলিশি হেফাজতে রেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল।
বর্তমানে বৈশাখের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। রাজারাজেশ্বরী নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে তারা।
কসমিক ডেস্ক