পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ নওগাঁ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং নিরাপত্তা জোরদারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
নওগাঁর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ বিহার হিসেবে পরিচিত। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভিড় করেন। এবারের ঈদেও এখানে পর্যটকদের আগমনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যেও রয়েছে ধামইরহাট উপজেলার আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান, জগদ্দল মহাবিহার, ভীমের পান্টি, পত্নীতলা উপজেলার দিবর দিঘি, মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মসজিদ, আত্রাই উপজেলার কবিগুরুর কাচারিবাড়ি এবং জেলা পরিষদ শিশু পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র। এসব স্থানেও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এবার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে রাণীনগর উপজেলার ‘পাখি পল্লী’। ঐতিহ্যবাহী হাতিরপুল এলাকার রতনডারা খালকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই নতুন পর্যটনকেন্দ্র ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মিত এই পর্যটন এলাকাটি দিন দিন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে এখানে নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সেতুর ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গত ঈদের তুলনায় এবার নওগাঁয় পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলায় আগে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনোদনকেন্দ্র ছিল না। স্থানীয়দের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাইমেনা শারমিন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের উদ্যোগে রতনডারা খালকে ঘিরে একটি পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে খালটিকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয় এবং এর দুই পাড়জুড়ে ‘রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা’ ও ‘পাখি পল্লী’ গড়ে তোলা হয়। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, যা পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে কাজ করছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে খালের দুই পাশে সোলার স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ঝুলন্ত সেতু স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় পুরো এলাকা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, পাখি পল্লীকে আরও টেকসই ও আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে পুরো এলাকাকে রঙিন করে সাজানো হচ্ছে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, এই পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দোকানপাট গড়ে ওঠায় অনেক বেকার মানুষের জীবিকা নিশ্চিত হয়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বগুড়ার আদমদীঘি থেকে আসা এক পর্যটক মামুনুর রশিদ তালুকদার বলেন, পরিবার নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য পাখি পল্লী একটি আদর্শ স্থান। ভবিষ্যতে এটি বিদেশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সার্বিকভাবে, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে নওগাঁ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো এবার ঈদে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য হয়ে উঠেছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।
কসমিক ডেস্ক