ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের Kishtwar জেলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থানায় হামলা, পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দায়ের করা এফআইআরে N Arun Gandhi, Vikas Sharma, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখেসহ ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় সেনাসদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ, সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কাজে বাধা এবং হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে Atholi থানায়। হামলার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, এসএইচও অমৃত কাটোচ একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় থানায় বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় পৌঁছানোর পর মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালান। ধস্তাধস্তির সময় তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ডিএসপি বিজয় কুমার ভগতের ওপরও হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সেনাসদস্যরা লাঠি, রড এবং সরকারি অস্ত্রসহ থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করেন। পুলিশ দাবি করেছে, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই এটি সংঘটিত হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরপরই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।
ঘটনাটি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক