আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে বাইসাইকেলের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, বাইসাইকেল উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ফ্রি হুইল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি এবং নতুন করে রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে বাইসাইকেলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফ্রি হুইল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক হার ১৫ শতাংশ। তবে নতুন বাজেট প্রস্তাবে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য আমদানি উপকরণের ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাইসাইকেল উৎপাদন শিল্পকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিশাল বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যার একটি অংশ হিসেবে বাইসাইকেল শিল্পে নতুন শুল্ক ব্যবস্থা আসতে পারে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে বাইসাইকেল উৎপাদন মূলত আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ফ্রি হুইল, চেইন, গিয়ারসহ বিভিন্ন কম্পোনেন্ট বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব কাঁচামালের ওপর শুল্ক বাড়লে উৎপাদন ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি বাইসাইকেলের দামও বেড়ে যেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাইসাইকেল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হিসেবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দাম বৃদ্ধি হলে সাধারণ ভোক্তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
অন্যদিকে সরকার পক্ষের যুক্তি হচ্ছে, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই কিছু ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক পুনর্বিন্যাস করা হয়ে থাকে। তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব বাজারে কীভাবে পড়ে, তা বাস্তবায়নের পরই স্পষ্ট হবে।
এদিকে বাজেট ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য শুল্ক পরিবর্তনের খবর বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উৎপাদক ও আমদানিকারকরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং চূড়ান্ত বাজেট ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাইসাইকেল শিল্পে শুল্ক পরিবর্তনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের বাজারে বাইসাইকেলের দাম বাড়ার একটি স্পষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক