আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠান ভবেশচন্দ্র পাঠাগার, চার দশক ধরে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠান ভবেশচন্দ্র পাঠাগার, চার দশক ধরে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠান ভবেশচন্দ্র পাঠাগার, চার দশক ধরে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছবির ক্যাপশন:

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। নাম তার ভবেশচন্দ্র গণপাঠ নিকেতন। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন বইপড়ার অভ্যাস অনেকটাই কমে যাচ্ছে, তখনও এই পাঠাগারটি পাঠক ও শিক্ষার্থীদের কাছে জ্ঞানের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হয়ে রয়েছে।

জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত বইপড়া, পত্রিকা পাঠ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এটি শুধু একটি গ্রন্থাগার নয়, বরং স্থানীয় মানুষের মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

পাঠাগারের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশ। হালকা সবুজ দেয়ালজুড়ে টানানো রয়েছে দেশের বরেণ্য সাহিত্যিক, কবি, শিল্পী ও মনীষীদের ছবি। সেখানে রয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জসীমউদ্দিন, সুফিয়া কামাল, শামসুর রাহমান, স্বামী বিবেকানন্দ, এস এম সুলতানসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনটি কাঠের আলমারিতে সংরক্ষিত রয়েছে বিপুল সংখ্যক বই। পাশাপাশি পাঠকদের জন্য রাখা হয় নিয়মিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা।

বিকেলের দিকে পাঠাগারে গেলে দেখা যায় প্রবীণ পাঠকদের সরব উপস্থিতি। কেউ সংবাদপত্র পড়ছেন, কেউ বইয়ের পাতায় ডুবে আছেন। অনেকের কাছে এটি শুধু বই পড়ার স্থান নয়, বরং মানসিক প্রশান্তি লাভের একটি জায়গা। তারা এখানে এসে সমবয়সীদের সঙ্গে সময় কাটান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্মৃতিচারণ করেন।

স্থানীয় পাঠকদের মতে, পাঠাগারটি এলাকার সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য এটি একটি প্রাণবন্ত আড্ডা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা বইয়ের সংগ্রহ। বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় কিংবা ছুটির পর অনেক শিক্ষার্থী এখানে এসে বই পড়ে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

বর্তমানে পাঠাগারটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬৫০ জন। এখানে রয়েছে প্রায় ১,৩০০ বইয়ের সংগ্রহ। সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বই বাড়িতে নিয়ে পড়ারও সুযোগ পান। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঠাগারের কার্যক্রম চালু থাকে। ফলে বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাদের সুবিধামতো সময়ে এসে পাঠাগারের সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

পাঠাগারটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি ইতিহাস। স্থানীয় শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিদের উদ্যোগে তৎকালীন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ভবেশচন্দ্রের স্মৃতিকে ধরে রাখতে তার নামেই প্রতিষ্ঠা করা হয় এই গণপাঠাগার। এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল প্রতিষ্ঠাতাদের মূল লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে সদস্যদের স্বল্প চাঁদা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পরিচালিত হতো পাঠাগারটি। জমি দান করেছিলেন এলাকার সমাজসেবী গৌরাঙ্গ সাহা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঠাগারের কার্যক্রম বিস্তৃত হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন হয়নি। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব রয়েছে। এছাড়া শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে।

পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বইপড়ার যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পাঠাগারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, ভবেশচন্দ্র গণপাঠ নিকেতন শুধু একটি পাঠাগার নয়, এটি এলাকার শিক্ষাবান্ধব সংস্কৃতির প্রতীক। যথাযথ সরকারি সহযোগিতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জ্ঞানচর্চা, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা দরে চাল

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা দরে চাল