দেশে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গজনিত জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৯টি শিশু।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা হামের উপসর্গে আক্রান্ত ছিল। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হাম কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৯৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে গত কয়েক মাসে হাম এবং হামের উপসর্গজনিত কারণে দেশে মোট ৬৮৯টি শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৯টি শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত না হলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশি-সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
হামের বিস্তার রোধে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক