বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের মামলাজট ও আইনি জটিলতার কারণে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী A N M Ehsanul Haque Milon।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মামলাজটের কারণে সারা দেশের শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের একটি আইনি জটিলতার কারণে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২ জুলাই আপিল বিভাগে এ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। ওই রায়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শূন্য পদগুলো পূরণের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তির বিশাল ব্যাকলগ পূরণ করতে হলে আরও প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন। বর্তমান জনবল সংকট দূর না হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় রূপপুর প্রকল্প ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট শিক্ষা খাতে দেখিয়ে “শুভঙ্করের ফাঁকি” দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বড় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়।
এই বক্তব্যে শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক