দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত Jeffrey Epstein কেলেঙ্কারি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি Melania Trump। বহু বিতর্ক ও গুঞ্জনের পর তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না এবং তার অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
বৃহস্পতিবার TRT World-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বিরল বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, তার নাম জড়িয়ে যে সব মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা বন্ধ হওয়া উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘নৈতিকতা ও সম্মানের অভাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মেলানিয়া আরও জানান, তার স্বামী Donald Trump-এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের প্রায় দুই বছর আগে। ফলে এপস্টেইনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনের কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এমনকি তার ব্যক্তিগত বিমানে ওঠা বা বিতর্কিত ব্যক্তিগত দ্বীপে যাওয়ার অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুর আগে Jeffrey Epstein অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচার ও যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। তার মৃত্যুর পরও এই কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ও বিতর্কিত একটি বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
এই মামলার সঙ্গে আরও একটি আলোচিত নাম হলো Ghislaine Maxwell, যিনি এপস্টেইনের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত এবং দণ্ডিত। তার মাধ্যমে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসে, যা এই কেলেঙ্কারিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অতীতে কিছু নথিতে Donald Trump ও মেলানিয়া ট্রাম্পকে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তবে মেলানিয়া ট্রাম্প এসব উপস্থিতিকে সামাজিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি নাকচ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইনকাণ্ড এখনও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও সমাজে একটি স্পর্শকাতর বিষয়। নতুন করে মেলানিয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেও এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক যে পুরোপুরি থেমে যাবে না, তা বলাই যায়।
কসমিক ডেস্ক