বাংলাদেশ বর্তমানে নেপালের সঙ্গে যৌথভাবে ৬৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সোমবার সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফাহিমা নাসরিনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, নেপাল থেকে আরও বেশি পরিমাণ জলবিদ্যুৎ আমদানি এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই যৌথ প্রকল্পটি বিবেচনায় আনা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ খাতকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ও নীতিগত কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নেপালের মতো পাহাড়ি দেশগুলোতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি টেকসই উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের যৌথ উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে পারবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ও আঞ্চলিক উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই নেপালের সঙ্গে ৬৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক