চলমান বাজেট অধিবেশনে সংসদ কক্ষে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম কার্যদিবসে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে অধিবেশনে অংশ নেন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরেন। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনেক সময় অধিবেশন কক্ষে দেখা যায় না, যা কার্যকর আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীদের আসন খালি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সংসদ কক্ষে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টির গুরুত্ব স্বীকার করে বলেন, বাজেট অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিবেশন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক মন্ত্রী সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকবেন এবং সংসদ সদস্যদের বক্তব্য সরাসরি শুনবেন।
স্পিকার উল্লেখ করেন, অর্থমন্ত্রী নিয়মিত অধিবেশনে উপস্থিত রয়েছেন। তবে অন্যান্য মন্ত্রীদেরও সংসদীয় কার্যক্রমে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ কাম্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে সংসদে উপস্থিত থাকা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে সংসদীয় আলোচনা আরও কার্যকর হয়।
চিফ হুইপ বলেন, বাজেটসংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাত সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সার্বিক জবাব শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীই দিয়ে থাকেন। সে কারণে তিনি নিয়মিতভাবে অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীও নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকেন। অন্যান্য মন্ত্রীদের প্রতিও তিনি অধিবেশনে উপস্থিত থেকে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার আহ্বান জানান।
সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বাজেট অধিবেশন দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিতি সংসদীয় জবাবদিহিতা ও কার্যকর আলোচনার জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক