সুইজারল্যান্ডের উইন্টারথার ট্রেন স্টেশনে ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক সুইস নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সুইস প্রশাসন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যস্ত সময়ে, যখন স্টেশনজুড়ে যাত্রীদের ভিড় ছিল। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।
সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট Guy Parmelin সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উইন্টারথারে সংঘটিত এই হামলা তাকে স্তম্ভিত করেছে এবং এমন সহিংস ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
জুরিখ ক্যান্টনের নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক Mario Fehr এবং জুরিখ পুলিশ প্রধান Marius Weiermann যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকেই উগ্রবাদী সংগঠন Islamic State-এর প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশের নজরদারিতে ছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণে হামলার পেছনে চরমপন্থী ও কট্টরপন্থী মতাদর্শের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। হামলাকারীর অতীত কার্যক্রম এবং অনলাইন তৎপরতাও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, হামলার কয়েক দিন আগে ওই ব্যক্তি নিজেই থানায় গিয়ে অসংলগ্ন আচরণ ও কথাবার্তা বলেছিলেন। পরে তাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকরা তাকে ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করে বুধবার ছাড়পত্র দিলে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এর মাত্র একদিন পরই ঘটে এই হামলার ঘটনা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে হামলাকারী হঠাৎ চিৎকার করতে করতে মানুষের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সময় স্টেশনে থাকা একদল শিশু শিক্ষার্থীকে রক্ষার জন্য তাদের শিক্ষক সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
আরেকজন ট্যাক্সিচালক জানান, আন্ডারপাসের ভেতর হামলাকারী উন্মত্তের মতো আচরণ করছিল এবং সামনে যাকে পাচ্ছিল তাকেই আঘাত করার চেষ্টা করছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, আহত তিনজনই সুইজারল্যান্ডের নাগরিক। তাদের বয়স ২৮, ৪৩ ও ৫২ বছর। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তি উরুতে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে ২৮ ও ৪৩ বছর বয়সী আহতরা পা ও ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর থেকে উইন্টারথার ট্রেন স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুইস কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা হামলার পেছনে কোনো বৃহৎ নেটওয়ার্ক বা আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংযোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে একক হামলাকারী বা ‘লোন উলফ’ ধাঁচের হামলার আশঙ্কা আবারও বাড়ছে। উইন্টারথারের এই ঘটনা সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক