ময়লার ভাগাড়ে আলোর ঝলকানি, রাতেও নির্বিঘ্নে চলবে বর্জ্য অপসারণ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ময়লার ভাগাড়ে আলোর ঝলকানি, রাতেও নির্বিঘ্নে চলবে বর্জ্য অপসারণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 22, 2026 ইং
ময়লার ভাগাড়ে আলোর ঝলকানি, রাতেও নির্বিঘ্নে চলবে বর্জ্য অপসারণ ছবির ক্যাপশন:

নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শহরের পুরানপাড়া এলাকায় অবস্থিত অস্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে স্থাপন করা হয়েছে ২৮টি এলইডি ফ্লাড লাইট, যার ফলে দীর্ঘদিনের আলো সংকট দূর হয়েছে এবং রাতের বেলায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে একযোগে এসব ফ্লাড লাইট চালু করা হয়। উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, আধুনিক ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত হবে এবং নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকায় প্রায় ছয় একর জমির ওপর অস্থায়ী ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য এখানে এনে ফেলা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকার এই কার্যক্রমের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল।

অন্ধকারের কারণে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বিকেল থেকেই বর্জ্য পরিবহনের কাজ শুরু করলেও অনেক সময় কাজ শেষ করতে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে গাড়ি চলাচল, বর্জ্য ফেলা এবং কর্মীদের নিরাপদে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ত। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগত এবং কর্মদক্ষতাও কমে যেত।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার ছয়টি পুল স্থাপন করে সেখানে ২৮টি শক্তিশালী এলইডি ফ্লাড লাইট বসিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার প্রধান ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, নতুন স্থাপিত আলোকব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো ভাগাড় এলাকা রাতে আলোকিত থাকবে। ফলে বর্জ্যবাহী যানবাহনের চলাচল এবং বর্জ্য ফেলার কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।

অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য এই ভাগাড়ে আনা হয়। ১৯টি গাড়ি পর্যায়ক্রমে বর্জ্য পরিবহন করলেও অন্ধকারের কারণে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগত। এখন পর্যাপ্ত আলোর কারণে একই কাজ অনেক কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

পরিচ্ছন্নতা শাখার প্রধান ইউসুফ আলী বলেন, সন্ধ্যার পর বর্জ্য পরিবহন শুরু হলে এখন মধ্যরাতের মধ্যেই অধিকাংশ কাজ শেষ করা যাবে। আগে যেখানে অন্ধকারের কারণে একটি গাড়ির বর্জ্য ফেলতেই উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হতো, সেখানে এখন দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ শুধু কর্মপরিবেশের উন্নয়নই নয়, বরং নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তুলবে। ভবিষ্যতে নগর সেবার মানোন্নয়নে এমন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ