বিসিবিতে তদন্তের পাহাড়, আড়ালে চূড়ান্ত রিপোর্ট The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিসিবিতে তদন্তের পাহাড়, আড়ালে চূড়ান্ত রিপোর্ট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 31, 2026 ইং
বিসিবিতে তদন্তের পাহাড়, আড়ালে চূড়ান্ত রিপোর্ট ছবির ক্যাপশন:
ad728

একটি ঘটনার তদন্ত শেষ না হতেই সামনে আসছে আরেকটি নতুন অভিযোগ। ফিক্সিং, নারী নির্যাতন, অবকাঠামোগত অনিয়ম—তদন্তের ভারে যেন নুয়ে পড়েছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত তদন্তের পরও চূড়ান্ত প্রতিবেদন কোথায়?

অক্টোবর মাসে বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর একাধিক অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু দেড় বছরে সংঘটিত কোনো বড় ঘটনারই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। উল্টো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ ছাড়াই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা বোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

সবচেয়ে আলোচিত ছিল ২০২৪–২৫ মৌসুমের বিপিএল ফিক্সিং তদন্ত। অভিযোগের পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় নয় মাস ধরে চলা তদন্তে ২৫টি বৈঠক হয় এবং ব্যয় হয় প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। ৯০০ পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদন বিসিবিতে জমা দেওয়া হলেও তা কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি। অথচ ‘গোপনীয়তার’ যুক্তিতে বিপিএলের ড্রাফট থেকে বাদ দেওয়া হয় ৯ ক্রিকেটারকে। কী অভিযোগে, কোন প্রমাণে—সে ব্যাখ্যা আজও অজানা।

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে। সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ তিন দফা বাড়ানো হয়। বোর্ড পরিচালকসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনের নাম উঠে আসে আলোচনায়। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিবেদন আদৌ প্রকাশ পাবে কি না—তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছেন বোর্ডের একাধিক পরিচালক।

ডিসেম্বরে সামনে আসে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা—পূর্বাচল স্টেডিয়ামের প্রায় ১২ হাজার ৫০০ ঘনফুট মাটি উধাও। বাজারমূল্যে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে বলে জানা গেলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। অন্যান্য ঘটনার মতো এটিও কি আড়ালে চাপা পড়ে গেল—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিসিবির নানা অনিয়ম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তেও গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানা যায়। কিন্তু সেই প্রতিবেদনও প্রকাশ পায়নি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা।

বিসিবির সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর মনে করেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। তার ভাষায়, “তদন্ত যদি আই-ওয়াশ হয়, তাহলে দেশের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দর্শক ও পৃষ্ঠপোষকরা মুখ ফিরিয়ে নেবে।”

একটির পর একটি তদন্ত, কিন্তু কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ নয়—এই ধারাবাহিকতা বিসিবির জবাবদিহি ও শাসনব্যবস্থা নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, বোর্ড কি স্বচ্ছতার পথে হাঁটবে, নাকি তদন্তগুলো ধামাচাপার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এমন চরিত্র বারবার আসে না: মেহজাবীন চৌধুরী

এমন চরিত্র বারবার আসে না: মেহজাবীন চৌধুরী