জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আরেকটি “অনিবার্য বিপ্লবের” জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, যা কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের ক্ষমতায়ন নয়, বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে।
গতকাল খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিও তুলে ধরা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না। তিনি দাবি করেন, জনগণের রায়কে সম্মান না করলে ভবিষ্যতে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, তারা জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং ভুল সংশোধন করে জনগণের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, ভোট ও গণরায়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে এবং জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সংসদে এবং রাজপথে শক্ত অবস্থান নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সীমান্ত ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে “পুশইন” পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে এবং দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশীর ক্ষতি না চাইলেও দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার কোনো দলের স্বার্থে নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জরুরি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও সমাবেশে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
কসমিক ডেস্ক