নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুতে শোকের ছায়া, সহপাঠীদের বিচার দাবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুতে শোকের ছায়া, সহপাঠীদের বিচার দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 26, 2026 ইং
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুতে শোকের ছায়া, সহপাঠীদের বিচার দাবি ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্রে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রাক্তন ছাত্রী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের খবরে তার পরিবার, সহপাঠী এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এই ঘটনায় সহপাঠীরা স্মৃতিচারণ করে বৃষ্টির মেধা, ব্যক্তিত্ব ও হাসিখুশি স্বভাবের কথা তুলে ধরেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

সহপাঠীরা জানান, বৃষ্টি শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থীই ছিল না, সে সবসময় হাসিখুশি ও মিশুক স্বভাবের ছিল। তার আচরণ ও ব্যবহার সবাইকে সহজেই আপন করে নিত। তারা বলেন, তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে এসিআইতে কর্মরত এবং বৃষ্টির সহপাঠী সায়মন ইসলাম বলেন, “সে খুব হাসিখুশি এবং মিশুক স্বভাবের ছিল। আমরা একসঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। আমাদের ব্যাচের ১০ জন একসঙ্গে ছিলাম। তার এ মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা তাদের পুরো ব্যাচকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অন্য সহপাঠী নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, বৃষ্টি শুধু ভালো ছাত্রীই ছিল না, সে সবার সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করত। বিদেশে গিয়ে সে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে—এটাই ছিল তাদের প্রত্যাশা। কিন্তু তার এমন মৃত্যু সত্যিই অবিশ্বাস্য এবং অত্যন্ত কষ্টের।

তিনি বলেন, এই খবর তাদের পুরো ব্যাচ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সহপাঠীরা তার স্মৃতি কখনো ভুলতে পারবে না বলেও জানান তিনি।

বৃষ্টির বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফাতেহা নুর রুবেল বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বৃষ্টিকে তারা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুতে বিভাগ গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি জানান, বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং সর্বোচ্চ সহায়তার চেষ্টা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তার পরিবারের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

নোবিপ্রবির উপাচার্য ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বৃষ্টির এমন মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বৃষ্টির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় এবং তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণেরও আহ্বান জানান তিনি।

এই ঘটনায় শুধু নোবিপ্রবিই নয়, পুরো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

সহপাঠী ও শিক্ষকরা একসঙ্গে দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আর না ঘটে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
থাইরয়েড রোগ: উপসর্গ, কারণ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়

থাইরয়েড রোগ: উপসর্গ, কারণ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়