কুবি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, জড়িত ছাত্রদল কর্মীরাও The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কুবি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, জড়িত ছাত্রদল কর্মীরাও

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 8, 2026 ইং
কুবি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, জড়িত ছাত্রদল কর্মীরাও ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জমি দখলকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এক কর্মচারীর জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মচারী জহিরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামান, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হায়াত, মালী কামাল, পরিচ্ছন্নতা কর্মী হাসান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক অতীতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অন্যদিকে যেসব শিক্ষার্থীর নাম এসেছে, তারা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় একটি ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর লালমাই পাহাড় এলাকায় ২০১৯ সালে ৩০ শতক জমি কেনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জহিরুল ইসলাম। একই এলাকায় আলাদা মালিকের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষকও। তবে জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে পরে বিরোধ দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলামের দাবি, গত ২ মে অভিযুক্ত শিক্ষকরা ছাত্রদল কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তার জমিতে গিয়ে জোরপূর্বক দখল কার্যক্রম চালান। এ সময় সেখানে খুঁটি স্থাপন করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, “এই খুঁটিগুলো তুললে হাত ভেঙে ফেলব।” এছাড়া থানায় মামলা করলেও কোনো লাভ হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশেই পুরো দখল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত শিক্ষকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামান বলেন, জমির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পরিমাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, কোনো শিক্ষার্থীকে সঙ্গে করে নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা হয়তো ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষকদের সঙ্গে কর্মচারীর বাকবিতণ্ডা দেখে সেখানে আসে।

একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হায়াতও। তার দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা সেখানে কেবল ঘটনাটি দেখতে গিয়েছিল।

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তারা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের অনুরোধেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও তারা কোনো ধরনের হুমকি বা দখল কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। কেউ যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িত থাকে, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রথম আলোর দগ্ধ ভবনে হামলার জন্য দায় স্বীকার সাবেক উপদেষ্টার

প্রথম আলোর দগ্ধ ভবনে হামলার জন্য দায় স্বীকার সাবেক উপদেষ্টার