ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থক নিজেদের প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের সমর্থনে ব্যস্ত, তখন আলোচনায় উঠে এসেছে এক ভিন্নধর্মী গল্প। এটি মাঠের পারফরম্যান্স বা কোনো গোলের নয়, বরং একজন মডেল এবং তার প্রেমিককে ঘিরে তৈরি হওয়া জনমতের গল্প। জার্মান মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার লরা শ্মিট বর্তমানে বিশ্বকাপের আবহে আবারও সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন।
উত্তর জার্মানিতে জন্ম নেওয়া লরা শ্মিট আগে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। তবে স্পেন জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ও ক্লাব ফুটবলের পরিচিত মুখ দানি ওলমোর সঙ্গে সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিচিতি বাড়তে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি একজন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক অনুসারী অর্জন করেন।
তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে এসেছে কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাও। বিশেষ করে ইউরো ২০২৪-এ জার্মানি ও স্পেনের মধ্যকার বহুল আলোচিত কোয়ার্টার ফাইনালের পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওই ম্যাচে স্পেন জয় পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক জার্মান সমর্থক লরার সমালোচনা করেন। কারণ, জার্মান নাগরিক হয়েও তিনি প্রকাশ্যে নিজের প্রেমিক এবং স্পেন দলকে সমর্থন করেছিলেন।
সেই সময় লরা প্রকাশ্যে জানান, ম্যাচের পর তিনি অসংখ্য নেতিবাচক ও আপত্তিকর বার্তা পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকেই তাকে কটূক্তি করেছেন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লরার অবস্থান ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী। একদিকে তিনি জার্মানির নাগরিক, অন্যদিকে তার প্রেমিক স্পেনের হয়ে খেলেন। ফলে জাতীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তার জন্য সহজ ছিল না। তিনি জানান, তার কাছে ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রিয় মানুষকে সমর্থন করা। এ কারণেই তিনি স্পেনের জার্সি পরতে দ্বিধা করেননি।
সম্প্রতি চলমান বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবারও স্পেনের ১০ নম্বর জার্সি পরে দানি ওলমোকে সমর্থন জানাতে দেখা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে। অনেক নেটিজেন আবারও ইউরো ২০২৪-এর ঘটনাগুলো স্মরণ করতে শুরু করেন এবং সম্ভাব্য জার্মানি-স্পেন ম্যাচ নিয়ে মন্তব্য করতে থাকেন।
লরা অবশ্য বারবারই বলেছেন, তিনি কোনো জাতীয় দলের রাজনৈতিক বা আবেগঘন বিতর্কে জড়াতে চান না। তার দাবি, তিনি কেবল একজন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, যিনি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফুটবল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করা উচিত নয় বলেও তিনি মনে করেন।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লরার বিশাল অনুসারী রয়েছে। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেও তিনি আলোচনায় রয়েছেন মূলত তার ব্যক্তিগত অবস্থান এবং প্রেমিকের প্রতি সমর্থনের কারণে। ভবিষ্যতে স্পেন ও জার্মানির মধ্যে আবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে তাকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তবে লরার বক্তব্য পরিষ্কার—তার কাছে ফুটবলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রিয় মানুষটির পাশে থাকা।
কসমিক ডেস্ক