দেশে হাম পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাম সন্দেহে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট ৬১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৪৪ জন। একই সময়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ২৬৬ জনে। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণ ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়ে গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৫ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। অর্থাৎ, সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবু সংক্রমণের বিস্তার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাম সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ একটি সংক্রামক রোগ। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা থাকায় এটি একাধিক এলাকায় একসঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা নেয়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য হাম মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, শরীরে র্যাশ এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা এর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে পড়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ হাজার ৯৫৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৮ হাজার ২৮৭ জন। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও এখনো বড় একটি অংশ চিকিৎসাধীন রয়েছে বা পর্যবেক্ষণে আছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মৃত্যুর এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত আলাদা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা এত বেশি হওয়া মানে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে তা নয়, বরং পরিবার ও সমাজেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত হওয়ায় অনেক রোগী সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না। এতে মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। যদিও অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবু নতুন করে মৃত্যুর খবর প্রমাণ করছে যে হাম এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে পুরোপুরি যায়নি। তাই টিকাদান, সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, হাম সন্দেহে আরও ৬ জনের মৃত্যু দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক