চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম এয়াকুব আলী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এম এয়াকুব আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতার কারণে তার নির্বাচনী প্রতীক চূড়ান্ত হতে বিলম্ব হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে অল্প সময় অবশিষ্ট রয়েছে, তাতে নির্বাচন কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, এই বাস্তবতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক ভিন্নমত বা দ্বন্দ্বের কারণে নয়।
এম এয়াকুব আলী বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমকে তিনি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এলডিপির নেতাকর্মীদের জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে থেকে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা ও কর্মকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-১২ আসনে এলডিপির মনোনীত প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এর একদিন পর নির্বাচন কমিশন তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়।
এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নির্বাচনী মাঠে কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন এম এয়াকুব আলী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তার সরে দাঁড়ানোর ফলে চট্টগ্রাম-১২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে এবং এতে জামায়াত প্রার্থীর অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক