অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব দুর্নীতি তদন্ত করা উচিত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব দুর্নীতি তদন্ত করা উচিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব দুর্নীতি তদন্ত করা উচিত ছবির ক্যাপশন:

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতির কোনো তামাদি নেই এবং দুদক যেকোনো সময় স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালসহ অতীত ও বর্তমান সব পর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগ সমানভাবে তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকার চায় দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত না থাকুক এবং সব অভিযোগই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

সোমবার সচিবালয়ে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো নির্ধারিত সময়সীমা বা তামাদি নেই। ফলে যেকোনো সময়ই এসব অভিযোগ তদন্ত করা সম্ভব।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি কিংবা বর্তমান সরকারের কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে দুদকের উচিত স্বাধীনভাবে সেই অভিযোগের তদন্ত করা। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা। এজন্য তদন্ত প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ কোনো নামেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তার ভাষায়, “যত দিন পর্যন্ত আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তত দিন তারা কোনোভাবেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না।”

এছাড়া তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকাও তুলে ধরেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার সংক্রান্ত আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম তা মানছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের আইন ও নীতিমালা মেনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আইন মেনে চলা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এ বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।

ব্রিফিংয়ের শেষ দিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও তথ্য দেন তিনি। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সীমান্তে ১৬৫টি এবং মিয়ানমার সীমান্তে ১৫টি পুশ-ইন ঠেকিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এটি সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্রিয়তার একটি উদাহরণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে সরকারের অবস্থান হলো—দুর্নীতি, রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা—সব ক্ষেত্রেই আইন ও নিয়মের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আল-আকসা বন্ধ রাখা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এরদোয়ানের

আল-আকসা বন্ধ রাখা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এরদোয়ানের