রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক (ECOSOC) হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার নারী ও শিশুদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সংকট মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং তাদের জীবনমান আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংকটের প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
কসমিক ডেস্ক