জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জামায়াতের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সাইবার অ্যাটাক ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি বঙ্গভবন ও ভারতের তথাকথিত “প্যাকেজ প্রোগ্রাম”-এর অংশ হিসেবে এই অপপ্রচারে যুক্ত রয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়স্থ ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে ভয় দেখাতে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মানুষকে বলা হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে দেশ নাকি পশ্চিম পাকিস্তানে পরিণত হবে। এমনকি ভোট দিতে গেলে পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডকে জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের এই নেতা।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দলটি এখন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও অবাস্তব। তিনি বলেন, “ভুয়া বলারও তো একটা সীমা থাকা উচিত।” এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আগে বেকার ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জনগণ আজও দেখেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব আশ্বাস মূলত জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, তারেক রহমান দাবি করেছেন, জামায়াত একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং তখন কেন তারা পদত্যাগ করেনি—এমন প্রশ্ন তুলেছেন। এর জবাবে জামায়াতের আমির বলেছেন, দুর্নীতির সাগরের মধ্যেও জামায়াত কীভাবে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে পারে, সেটি প্রমাণ করার জন্যই তখন কেউ পদত্যাগ করেনি। তিনি বলেন, সেই সময় সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে দাড়িওয়ালা ও টুপিওয়ালারা দেশ পরিচালনার যোগ্য নয়, কিন্তু জামায়াত বাস্তবে তার বিপরীত প্রমাণ দিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, জনগণকে এখন তাদের লালকার্ড দেখাতে হবে। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি—এই তিন দলই ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতি, দলীয়করণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল। নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতার পরীক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে শেখ হাসিনার ১০ টাকার চাল দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি হলেও বিএনপি ৫০ কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জামায়াতের দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন এবং জেলা সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমান। এ সময় নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
কসমিক ডেস্ক