শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, চেয়ারে বসার মতো একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে যে ধরনের সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে একজন রাজনৈতিক নেতার নৃশংস মৃত্যু হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, এ ধরনের সহিংসতা সেই প্রত্যাশাকে ব্যর্থ করেছে এবং জাতিকে হতাশ করেছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের ঘাটতির কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির আরও বলেন, এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সহিংসতা সৃষ্টির সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা শিথিলতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
চরমোনাই পীর নিহত ব্যক্তির পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা রেজাউল করীমের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের সহিংস ঘটনা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। তাই এ ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
চরমোনাই পীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল অবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক